ইন্টারনেট (Internet) নিয়ে কিছু কথা।

বিশ্বকে যুক্ত করার প্রথম প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলে ঔপনিবেশিক যুগের টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপনের মাধ্যমে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে কম্পিউটারের উদ্ভাবন ঘটে ও ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে ARPANET ( Advanced Research Projects Agency Network) নামক প্রজেক্টের মাধ্যমে ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে আরপানেটে শুধুমাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্ত:কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা ছিল। ইন্টারনেট শব্দটি এসেছে International Network থেকে। ইন্টারনেট মানে হলো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বা নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেটকে সংক্ষেপে নেট (Net) এবং বাংলায় আন্তর্জাল বলা হয় । অর্থাৎ ইন্টারনেট হলো সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন দেশের কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমষ্টি যা ব্যবহারকারী আইপি (Internet Protocol) ব্যবস্থার মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। যেমন চিঠি আদান-প্রদানের জন্য ইমেইল সুবিধা, এক দেশ থেকে অন্য দেশে টেলিফোনের মাধ্যমে কথা বলা, টেলিকনফারেন্সিং ও ভিডিও কনফারেন্সিং ইত্যাদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা যায়।


বর্তমান ইন্টারনেটকে বিশ্বগ্রামের মেরুদণ্ড বলা হয়। কেননা, ইন্টারনেটের কারণে আজ পৃথিবীর সকল মানুষ এক অদৃশ্য জালের মতো নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একে অপরের সাথে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করতে পারছে। এখন ইন্টারনেট দুইভাবে পাওয়া যায়। একটি তারযুক্ত ইন্টারনেট ও অপরটি তারবিহীন ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড স্টেটস এর (www.internetworldstats.com) এর তথ্যানুসারে, ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৪,৫৭৪,১৫০, ১৩৪ ( ৪.৫৭ বিলিয়ন এর অধিক) মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৫৮.৬৬ ভাগ। সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে এশিয়া মহাদেশে সবচেয়ে বেশি যা প্রায় ৫০.৩%। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এর তথ্য মতে, ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইন্টারনেট সাবস্ক্রাইবারে সংখ্যা প্রায় ১০৩.২৫৩ মিলিয়ন (যা ১০:৩২৫৩ কোটি)। ইন্টারনেট সাবস্ক্রাইবার অর্থ হচ্ছে গ্রাহকরা পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে কমপক্ষে একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। ব্যবহারকারীর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ৯৫.১৬৮ মিলিয়ন, ওয়াইম্যাক্স ০.০০২ মিলিয়ন, আইএসপি ও পিএসটিএনসহ ৮.০৮৪ মিলিয়ন ব্যবহারকারী আছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post